দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোর (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে নতুন করে ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। আফ্রিকার রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র ‘আফ্রিকা সিডিসি’ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত প্রায় ২৪৬ জন আক্রান্ত হয়েছেন এবং মারা গেছেন ৬৫ জন।
শুক্রবার দেওয়া এক বিবৃতিতে আফ্রিকা সিডিসি জানায়, স্বর্ণখনি সমৃদ্ধ মোঙ্গওয়ালু ও রওয়ামপারা শহরে সংক্রমণ সবচেয়ে বেশি ছড়িয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় কঙ্গো, উগান্ডা, দক্ষিণ সুদানসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের নিয়ে জরুরি বৈঠক আয়োজন করা হচ্ছে।
ইবোলা ভাইরাস প্রথম শনাক্ত হয়েছিল ১৯৭৬ সালে কঙ্গোতেই। ধারণা করা হয়, বাদুড় থেকে মানুষের শরীরে এই ভাইরাস ছড়িয়েছে। কঙ্গোর ইতিহাসে এটি ১৭তম ইবোলা প্রাদুর্ভাব। আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল পদার্থের সরাসরি সংস্পর্শের মাধ্যমে এই ভাইরাস ছড়ায়। এতে শরীরে তীব্র রক্তক্ষরণ হয় এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যেতে পারে।
রোগটির প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, মাংসপেশিতে ব্যথা, ক্লান্তি ও গলাব্যথা। এখন পর্যন্ত ইবোলার নির্দিষ্ট কোনো প্রতিকার বা কার্যকর নিরাময় আবিষ্কৃত হয়নি।
কঙ্গোর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে রাজধানী কিনশাসার ‘ইনস্টিটিউট ন্যাশনাল ডি রেচেচে বায়োমেডিকাল’ (আইএনআরবি)-এ ২০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১৩টিতে ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। মৃত ৬৫ জনের মধ্যে অন্তত চারজনের সংক্রমণ পরীক্ষায় নিশ্চিত হয়েছে বলে জানিয়েছে আফ্রিকা সিডিসি।
ইতুরি প্রদেশের রাজধানী বুনিয়াতেও কয়েকজন সন্দেহভাজন রোগী শনাক্ত হয়েছেন। তবে তাদের পরীক্ষার ফল এখনো প্রকাশ হয়নি। কঙ্গো সরকার এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাদুর্ভাব ঘোষণা না দিলেও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম জানিয়েছে, এ বিষয়ে শিগগিরই সংবাদ সম্মেলন হতে পারে।
২০২১ সাল থেকে ইতুরি প্রদেশ সামরিক শাসনের অধীনে রয়েছে। সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দমনে সেখানে বেসামরিক প্রশাসনের পরিবর্তে সামরিক নিয়ন্ত্রণ চালু করা হয়। এমন অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেই ইবোলার নতুন প্রাদুর্ভাব জনমনে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
গত ৫০ বছরে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে ইবোলায় প্রায় ৫০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। কঙ্গোতে সবচেয়ে ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব দেখা যায় ২০১৮ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে। সে সময় প্রায় ২ হাজার ৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। এছাড়া গত বছর কাসাই প্রদেশে ইবোলায় আরও ৪৫ জন মারা যান।
এমএস/